• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছুঁল ৩০০

জামাল হোসেন
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৪, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছুঁল ৩০০
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া:দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশাবাহী রোগটিতে মৃত্যুর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছুঁয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ৩৮২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ১৯৯ জনে। তবে চলতি বছর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৩৮ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ১৭৬ জন রয়েছেন। সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন, খুলনা বিভাগে ৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন, রাজশাহীতে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক সপ্তাহে (২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর) ডেঙ্গুতে ৩১ জনের মৃত্যু এবং ৭ হাজার ১৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু ও ৬৬১ জন হাসপাতালে, ২৭ অক্টোবর ছয়জনের মৃত্যু ও এক হাজার ২৪৮ জন হাসপাতালে, ২৮ অক্টোবর তিনজনের মৃত্যু ও এক হাজার ১৯৭ জন হাসপাতালে, ২৯ অক্টোবর ছয়জনের মৃত্যু ও এক হাজার ৩১২ জন হাসপাতালে, ৩০ অক্টোবর চারজনের মৃত্যু ও এক হাজার ১৫৪ জন হাসপাতালে, ৩১ অক্টোবর সাতজনের মৃত্যু ও এক হাজার ২৪৩ জন হাসপাতালে, শুক্রবার তিনজনের মৃত্যু ও ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশা নিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।